হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বাহরাইন হিউম্যান রাইটস সোসাইটি দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শোকের মাওকিব পরিচালনার ওপর আরোপিত সব ধরনের পদক্ষেপ ও বিধিনিষেধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং সংবিধান ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী নাগরিকদের স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার পালনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
সংগঠনটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নির্বিচারে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের ফলে শোকানুষ্ঠান ও অন্যান্য ধর্মীয় উপলক্ষে ব্যবহৃত ৫০টি শোকগৃহ (হুসাইনিয়া) ও মাওকিব বন্ধ হয়ে গেছে বলে তারা জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ বাহরাইন সরকারের স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির লঙ্ঘন-বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা এবং আরব মানবাধিকার সনদের।
বাহরাইন হিউম্যান রাইটস সোসাইটি আরও বলেছে, এসব পদক্ষেপ সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধ শুরুর পর কিংবা তারও আগে থেকে বাহরাইনে বিরাজমান সামগ্রিক পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং এগুলো শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ক্রমশ কঠোর হয়ে ওঠা একটি নীতির নতুন অধ্যায়। সাম্প্রতিক সময়ে এর মধ্যে রয়েছে-আরবাইন জিয়ারতের কার্যক্রমে বাধা বা বিধিনিষেধ, শিয়াদের ধর্মীয় আচার ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রকাশের ওপর কঠোরতা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপক গ্রেপ্তার এবং বহু বিশিষ্ট শিয়া আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে আটক। এসব ব্যক্তির ওপর হামলা, দুর্ব্যবহার ও নির্বিচারে আটকের বিষয়ে নথিভুক্ত তথ্যও রয়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।
সংগঠনটির মতে, এসব ঘটনা এমন একটি পদ্ধতিগত দমন-পীড়নের ধারা থাকার প্রমাণ দেয়, যার মাধ্যমে নাগরিকদের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ধর্মীয় এমনকি নাগরিক অধিকারও বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
বাহরাইন হিউম্যান রাইটস সোসাইটি জোর দিয়ে বলেছে, দেশটির কর্তৃপক্ষ শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এখনও পদ্ধতিগত কঠোরতার নীতি অনুসরণ করছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এই নীতির গতি আরও বেড়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে। ধর্মীয় আচার পালনে ব্যাপক বিধিনিষেধ, শোকের মাওকিব আয়োজন বন্ধ করা, শোকসভা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে শোকগৃহ ও হুসাইনিয়ার অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর সব ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে এই নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, এসব পদক্ষেপ জাফরি ওয়াকফ প্রশাসনের জারি করা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ। তাদের অভিযোগ, এই প্রশাসন শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নির্বিচার নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত এবং কার্যত ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের সেবায় একটি বাস্তবায়নকারী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
বাহরাইন হিউম্যান রাইটস সোসাইটি শোকগৃহ, হুসাইনিয়া ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সব ধরনের নিরাপত্তাগত কঠোরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে। ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তলব বা চাপ প্রয়োগ বন্ধ, ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রকাশ্য বৈষম্য বন্ধ এবং নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস পালনের অধিকার ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সব সম্প্রদায়ের সমতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া সংগঠনটি ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতার অধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তাঁরা বাহরাইনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করেন, দেশটির শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করেন এবং বাহরাইনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মানবাধিকার বিষয়ে দেশটির আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলো পালনে চাপ প্রয়োগ করেন।
আপনার কমেন্ট